চীন থেকে আগস্টে রফতানি বাড়লেও সাম্প্রতিক মাসগুলোর তুলনায় এ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল শ্লথ। এর কারণ হিসেবে মার্কিন শুল্ক ও বাণিজ্য উত্তেজনার প্রভাবকে সামনে আনছেন বিশ্লেষকরা। খবর এপি।
প্রতিবেদন অনুসারে, আগস্টে চীন থেকে রফতানি হয়েছে ৩২ হাজার ১৮০ কোটি ডলারের পণ্য, যা ২০২৪ সালের একই মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। তবে জুলাইয়ের ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় এ হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। অন্যদিকে একই মাসে চীনে আমদানি বেড়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ, যার আকার ২১ হাজার ৯৫০ কোটি ডলার।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে চীনের রয়েছে বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত, যা সাম্প্রতিক বাণিজ্য উত্তেজনার অন্যতম কারণ। দেশগুলোর অভিযোগ, সস্তা চীনা পণ্য ভোক্তাদের জন্য সুবিধাজনক হলেও স্থানীয় উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।
বেইজিং থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) আমদানির তুলনায় ৭৮ হাজার ৫৩০ কোটি ডলারের বেশি পণ্য রফতানি করেছে চীন।
জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর চীনা আমদানির ওপর অতিরিক্ত ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরবর্তী সময়ে আরো বড় আকারের শুল্ক আরোপ করেও তাকে সরে আসতে হয়। চীন-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি শুল্ক এবং তা সামনে আরো বাড়ার আশঙ্কা দুই দেশের পারস্পরিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে। আগস্টে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ৩৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৩০ কোটি ডলারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে ১৬ শতাংশ আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৪০ কোটি ডলারে।
আগস্টে চীন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নমুখী রফতানি ১০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৬৮০ কোটি ডলার। একই সময় ইইউ থেকে আমদানি সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৮০ কোটি ডলারে।
গত মাসে ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের দুষ্প্রাপ্য খনিজ রফতানি করেছে চীন, যা ২০২৪ সালের আগস্টের তুলনায় ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ কম। তবে জুলাইয়ের ৪ কোটি ১০ লাখ ডলারের রফতানির তুলনায় এটি বেশি। দুষ্প্রাপ্য খনিজ প্রক্রিয়াজাতে বৈশ্বিক বাজারে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে চীন। গত এপ্রিলে এ খাতে বেইজিং রফতানি সীমিত করলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি জুনে লন্ডনে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য আলোচনার অন্যতম ইস্যুতে পরিণত হয়। তখন চীন আরো বেশি দুষ্প্রাপ্য খনিজ রফতানি অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দেয়। এর বিনিময়ে চিপ ডিজাইন সফটওয়্যার ও জেট ইঞ্জিন বিক্রির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।